| | | |
সংবাদ শিরোনামঃ
মিরপুরে মাটি পরীক্ষায় ডিজিটাল সেন্সর ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণ ভেড়ামারায় বিয়ে করতে এসে জরিমানা গুনতে হলো বর কে ভেড়ামারায় আলহেরা মডেল একাডেমী স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ ভেড়ামারার পদ্মায় পানির তোড়ে ভেসে গেলো কৃষক ভেড়ামারায় গনধর্ষন/ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে গেলো তরুনী ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২জন আসামি গ্রেফতার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা, দাদু আর একমাত্র ভাই সবাইকে হারিয়ে মহিমার চোখে কেবলই অন্ধকার/ আগুনে ছাই হয়ে গেল মহিমার সব স্বপ্ন ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ

শিক্ষা ব্যবস্থার পোস্টমর্টেম

রবিউল ইসলাম, লেখক, উপন্যাসিক, ভেড়ামারা:

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। মেরুদন্ডহীন মানুষ যেমন মাথা উঁচু করে চলতে পারেনা। শিক্ষা বিহীন একটা জাতিও ঠিক তাই। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি অগ্রগতির পথে এগোতে পারেনা। একটা জাতির অগ্রগতি ও উন্নতির মূল চাবিকাঠিই হচ্ছে শিক্ষা। উন্নত দেশ গুলোর দিকে তাকালেই আমরা সেটা বুঝতে পারি। শিক্ষাতাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও কর্ম পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ রূপে পাল্টে দিয়েছে। যার ফলে তারা সামাজিকতা, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, রুচিবোধ, অর্থনীতি, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটিয়েছে। তাদের এই ক্ষেত্র বিশেষে উন্নতি পুরো দেশটাকেই পাল্টে দিয়েছে। উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। শিক্ষা একটা দেশ ও জাতির মূল চালিকা শক্তি। সেই শিক্ষাকেই যদি দীর্ঘদিন ধওে অকার্যকর করে রাখা হয়, গুরুত্ব না দিয়ে উদাসীনতা দেখানো হয়, নিশ্চিত সে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দেশে কিন্তু সব কিছুই তার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। বাজার-ঘাটে লোক সমাগমের অভাব নেই। গায়ে-গালা গিয়ে মানুষ যানবাহনে চলাচল করছে। বই মেলার মতো বিশাল আসর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে বিভিন্ন ধরনের মেলা। পুলিশি পাহারায় চলছে পূজা অর্চনা। মাদ্রাসা গুলো ও বহুআগে থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছে। গ্রার্মেন্টস ফ্যাক্টরিও খোলা। রাজনৈতিক মিটিং মিছিল ও চলছে সমানে। শুধু কি তাই, কোথাও কোনো স্বাস্থ্য বিধি ও মানা হচ্ছে না ঠিক মতো। এসব জায়গায় কিন্তু কোনো করোনা নেই। যত করোনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাই সব কিছু খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়নি সরকার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ দেখে মনে হয় সমস্ত করোনা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে জমা হয়েছে। কোনো ভাবেই তাকে তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
অভিভাবকরা এতে ভীষণ ভাবে বিরক্ত। তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্নÑসত্যি কি তাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, নাকি তাড়াতে চাচ্ছে না ? কৌশলে এ জাতিকে শিক্ষা থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছেনা তো ?
২০০৮ সালের পর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান উন্নয়নের চেয়ে পাশের হার বাড়ানোর কাজে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠে। সঠিক ভাবে তারা মেধার মূল্যায়ন না কওে পাশের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামে। এক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। তাদের এই চেষ্টার ফল হিসাবে বর্তমানে পাশের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০% এর কাছাকাছি। শুধু কি তাই, তার চেয়েও চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে পাশকৃত শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশই এ+ অর্জনকারী। তাই তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে বলা চলে। কিন্তু তাদের এ সফলতা দেশের কোনো উপকাওে আসেনি। এমনিতেই আমরা কারিগরী ও স্বনির্ভও শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অনেক পিছিয়ে, তার মধ্যে আবার ভুল শিক্ষানীতি; স্বেচ্ছায় যেন পঙ্গুত্বকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। মানব সম্পদ থেকে জাতি বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু শুধু দেশে বেকারত্বের বোঝা বাড়ছে।
কিছু কিছু অভিভাবক অবশ্য এই ধরনের সফলতায় বেশ খুশি। বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক, কর্তা ব্যক্তিদের কে তারা সমানে বাহবা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যি কি তাদের সন্তান এ+ পাওয়ার যোগ্য কিনা, পাশ করার যোগ্য কিনা, একবার ও সেটা খতিয়ে দেখছে না। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে সকলেই আমরা মূল শিক্ষা থেকে সরে এসেছি। গ্রন্থগত ও নম্বর কেন্দ্রিক শিক্ষার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। শেখার চেয়ে সার্টিফিকেট অর্জনটা আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটা দেশ ও জাতির জন্য এটা চরম ক্ষতিকর।
এখানেই কিন্তু শেষ নয়, সামনের পথটা কিন্তু আরও বেশি কঠিন। এমনিতেই আমরা শিক্ষা-দীক্ষায় মানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে, এর মধ্যে আবার সরকার লেখাপড়া ছাড়াই অটোপাশ দিয়ে ক্লাস উত্তীর্ণের পথটা একেবারেই সহজ করে দিচ্ছে। আগে তোযা হোক পাশের জন্য অন্তত পরীক্ষাটা দেওয়া লাগত; এখন আর তাও লাগছেনা। ১৭ মার্চ ২০২০ তারিখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর থেকে এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আজ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়ে উঠেনি। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত সরকার শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে বিকল্প ও কার্যকর তেমন কোনো পদক্ষেপ ও গ্রহণ করতে পারেনি। অনলাইন ক্লাস সুবিধাটা মাধ্যমিক স্তওে চালু করতে পারলেও প্রাথমিক স্তরে সেভাবে পারেনি। যদিও ইদানিং কালে সেটা চালু করেছে। কিন্তু অধিকাংশই তাতে আগ্রহীনা। তাদের এ অনাগ্রহের মূল কারণটা হচ্ছে অভ্যস্থতা ও ইন্টারনেট সমস্যা। আমরা এমনিতেই এ সংস্কৃতিতে খুব একটা অভ্যস্থ নই, তার উপর আবার আমাদের দেশের নেটব্যবস্থা খুবই ধীর গতি সম্পন্ন। যার ফলে যে গুটি কয়েক শিক্ষার্থী আগ্রহী ছিল, তারাও তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষার্থী হয়ে গেছে পাঠ বিমুখ। অনেক শিক্ষার্থী আবার নেশার পথে পা বাড়িয়েছে। এখন তাদের অনেকের হাতেই বিড়ি-সিগারেট সহ আর ও নানান ধরনের নেশার দ্রব্য শোভা পাচ্ছে।
প্রাথমিক স্তরের বাচ্চাদের অবস্থাও তাই। পাঠ বিমুখতার সাথে সাথে তারা চরম ভাবে মোবাইল এডিক্টেড হয়ে পড়েছে। পড়া লেখাতে তাদের একদমই মন নেই। তাদের কথাÑস্কুল তো বন্ধ। যখন স্কুল খুলবে, তখন পড়ব। সন্তানের এ অবস্থা দেখে অভিভাবকরা খুবই উদ্বিগ্ন। এ পথ থেকে তাদের ফেরানো যাবে কিনা, সেটা নিয়ে তারা সংশয়ে আছে। সারাক্ষণ তারা হা-হুতাশ করছে।
তবে সমস্ত অভিভাবকই যে হা-হুতাশ করার দলে তা কিন্তু নয়। অনেকেই আছে যারা সন্তানের অটো পাশে খুশি হয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। কিছু শিখুক বা না শিখুক ছেলের ক্লাস উত্তীর্ণটা তো হয়েছে, তাতেই তারা খুশি। তাই নিশ্চিন্ত মনে তারা টিভি সিরিয়াল দেখে সময় কাটাচ্ছে। অনেকের আবার অবসর সময়ের বিনোদন হিসাবে পরকিয়া টা বেশ ভালোই জমে উঠেছে। আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবকরাও বিপথ গামী হয়ে পড়েছে। সন্তানের মতো তাদের ভেতরেও শিক্ষা নিয়ে একটা অলসতা তৈরি হয়েছে।
স্কুল হচ্ছে একটা রুটিন ওয়ার্ক। রুটিন ওয়ার্ক না থাকলে মানুষ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা। তাই সরকারের উচিত বিষয়টি কে আমলে নেওয়া। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখনই দেশে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া। জাতিকে অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করা। নইলে কিন্তু এ জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024